Youth Science Academy
AD
AD 2
আল-খোয়ারিজমী বীজগণিতের জনক ( শেষ পর্ব)

আল-খোয়ারিজমী বীজগণিতের জনক ( শেষ পর্ব)

গণিতে শূণ্যের ব্যবহার: যদিও এটি গণিতের অন্তর্ভূক্ত তবুও এর গুরুত্ব বিবেচনা করে এটি আলাদা অনুচ্ছেদে বর্ণনা করছি। গ্রীক ও ভারতীয় হিন্দু গণিতবিদদের মধে গণিতের যে অসূম্পূর্ণতা ছিল, সে অসম্পূর্ণতা পূরণ করেছিলেন আল-খাওয়ারিজমী। তার গণিতের বিষয়-আশায় উপস্থাপনা ছিল অসাধারণ ও অনন্য। আরবীয়রা ভারতীয়দের নিকট থেকে সংখ্যা লিখন প্রণালী শিক্ষা লাভ করেন। মুসলমান বৈজ্ঞানিকেরা নিজেরা এটিকে সংশোধন করেন। খাওয়ারিজমী শূণ্য লিখন প্রণালী নিজেরা উদ্ভাবন করেন। খাওয়ারিজমী এ শূণ্য লিখন প্রণালীকে সর্বশেষ রূপদান করেন। ইউরোপীয়রা মুক্তকন্ঠে এ কথা স্বীকার করেন। এই শূণ্য ব্যবহার করার ফলে গণিত এসে দাড়ালো পরিপূর্ণ প্রেক্ষিতে।তিনি এখানেই থামলেন না। তার মগজে ঝড় বয়ে গেলো। এই শূণ্য ব্যবহার গণিতে নিয়ে আসলো এক অসাধারণ বিপ্লব।

ভগ্নাংশ পদ্ধতি আবিষ্কার: ভারতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার সময়ে তিনি আবিষ্কার করেন ভগ্নাংশের বিস্ময়কর দিক। তার এই কাজগুলো পরিচিত ছিলো আরব্য-কর্ম হিসেবে। শিগগিরই তা কর্ম-অবদানগুলো পৌছে গেলো ইউরোপে। ইউরোপীয়রা দ্রুত তার বই ও লেখাগুলো অনুবাদ করে নেয়। সেই সাথে তিনি ইউরোপেও বিখ্যাত হয়ে যান।তিনি দশমিক ব্যবস্থাকে এক নতুন দিগন্তে পৌছে দিতে চাইলেন।এক্ষেত্রে তার অবদান প্রশংসনীয়।

ত্রিকোণমিতিতে অবদান: গণিতের আরেকটি শাখা হলো ত্রিকোণমিতি। সমকোণী ত্রিভুজের তিন কোণ আর বাহু নিয়ে ত্রিকাণমিতির কারবার। আল-খাওয়ারিজমী উদ্ভাবন করেন ত্রিকোণমিতির বিস্তারিত উপাত্ত। তিনিই কনিক সেকশনে"-এর গাণিতিক ধরণের আধুনিকায়ন করেন। এরপর তিনি হাত বাড়িয়ে দেন ক্যালকুলাসে। তিনি ক্যালকুলাসের উন্নয়ন ঘটি এর আধুনিকায়ন করেন। ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাস হচ্ছে এর একটি শাখা।এটি নিয়ে তিনি কাজ করা শুরু করেছিলেন।

জ্যামিতিতে তার অবদান: তিনি প্রথম বীজগণিতের সমীকরণের জ্যামিতিক সমাধান নির্ণয় করেন। জ্যামিতির ক্ষেত্রে আয়ত,বর্গ,ত্রিভুজ প্রভৃতি জ্যামিতিক ক্ষেত্রগুলোর যে ধারণা দিয়েছিলেন তা হুবহু আজও একই রকম রয়েছে। তিনিই কনিক সেকশনের গাণিতিক ধরণের আধুনিকায়ন করেন।

জ্যোতির্বিদ্যায় তার অবদান: জ্যোতির্বিদ্যায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য এবং দিয়ে গেছেন নতুন ধারণা ও প্রজ্ঞার জগতে। তার আরও কাজের মধ্যে ঘড়ি ও সূর্যঘড়ির ক্ষেত্রে তার অবদান অন্তভূক্ত। আল-খাওয়ারিজমী জ্যোতির্বিজ্ঞানের একখানা জিজ বা তালিকা প্রণয়ন করেন। তার এই জিজের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, এতে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঔপপত্তিক উপক্রমণিকা সংযোগ করেন। এ বিষয়ে এ উপক্রমণিকাই তার প্রগাঢ় পান্ডিত্যের স্বাক্ষর।এ সম্পর্কিত তার দুই খানা গ্রন্থ রয়েছে। প্রথম গ্রন্থে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক যন্ত্রপাতির নির্মাণ কৌশল আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় গ্রন্থে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কিরুপে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক পাঠ নিতে হয তা সম্পর্কে আলোচনা করেন।জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক লেখাগুলো অনুবাদ করা হয ইউরোপীয় ভাষায় ।পরবর্তীতে এগুলো চীনা ভাষায়ও অনুবাদ করা হয়।

অনুবাদ কর্মে তার অবদান: এর আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি গ্রীক ও ভারতীয়দের বইগুলো আরবীতে অনুবাদ করেন। তিনি টলেমীর বইগুলো অনুবাদ করেন। এছাড়া তিনি জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর একটি বই অনুবাদ করেন । জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর রচিত ভারতীয়দের একটি বই "সিদ্ধান্ত" তিনি আরবীতে অনুবাদ করেন।

ভূগোল শাস্ত্রে অবদান: তিনি টলেমী সুচিত অনেক ভৌগলিক ধারণার সংশোধন করেন। ইউরোপীয়রা এতে বিস্মিত হয়। টলেমির মানচিত্র পর্যন্ত তিনি সংশোধন করেন এবং তিনি তাতে একটি মানচিত্র সংযুক্ত করেন। আল-খাওয়ারিজমী'র টলেমির দ্রাঘিমা ও অক্ষরেখা গ্রহণ করেন, সেই সাথে তার সাথে মুসলিম দেশগুলোর বিবরণ পেশ করেন। আল-খোয়ারিজমী'র উদ্যোগে দুনিয়ার একটি বাস্তবরূপ তৈরী করা হয়,যা পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কনে নমুন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল-খাওয়ারিজমী প্রথম পৃথিবীকে সপ্ত ইকলিম বা মন্ডলে ভাগ করেন। এই সূত্র ধরেই আবহওয়ার পরিমন্ডল অনুসারে পৃথিবীকে সাতটি মহাদেশে ভাগ করেন।

তাঁর রচিত বই: তিনি অনেক বই লিখেছেন এগুলোর অধিকাংশ ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আবার অনেকগুলোর অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায় না।

বইয়ের তালিকা:
আল-জাবর ওয়া-আল-মুকাবিলা: এ বইটি তার সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়।এটি সবচেয়ে বেশী বিখ্যাত। এই বইটির নাম অনুসারে এলজেবরা বা বীজগণিত নামকরণ করা হয়। এ বইটি লাতিন ভাষায় অনুবাদ করা হয় দ্বাদশ শতকে।অনুবাদ কর্মের মধ্য দিয়ে এই নতুন বিজ্ঞান পশ্চিমা জগতে প্রবেশের সুযোগ পায়। এর আগে ইউরোপের কাছে বীজগণিত ছিলো একটি অচেনা বিষয়। ইউরোপীয়রা এ বিষয়ে ছিলো পুরোপুরি অজ্ঞ।

এক নজরে বইটি:
বইটি পাঁচখন্ডে বিভক্ত। প্রথম অংশে তিনি দ্বিঘাত সমীকরণগুলোকে ছয়ভাগে বিভক্ত করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনা করেন। দ্বিঘাত সমীকরণে যে দুটো মূল বিষয় খারেজমী সর্বপ্রথম উল্লেখ করেন। এবং এটি সমাধান করেন। দ্বিতীয় অংশে তিনি বীজগণিতের সমীকরণের জ্যামিতিক সমাধান নির্ণয় করেন। চতুর্থ খন্ডে তিনি করণী অপসারণ সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। দশম শতাব্দীর ইউসূফ রচিত 'মাফাতিহুল উলুম' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়।

কিতাবুল সুরত আল-আরদ: এটি ভূগোল বিষয়ক বই। এটি পৃথিবীর আকার সমন্ধীয় একখান বই। তাঁর এ গ্রন্থখানা মূলত ভূগোল সমন্ধীয় আলোচনায় সমৃদ্ধ। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। অনুবাদকর্মের সাথে মানচিত্রগুলোও অন্তর্ভূক্ত্ করা হয়। কিতাব আল-জাম ওয়াল তাফরিক-বিল-হিসাব আল হিন্দ: এই বইটি ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। কিন্ত এই বইটি আরবীতে আর পাওয়া যায় না।

ইসতিখেরাজ তারিখ আল-ইয়াহুদ: ইহুদী পঞ্জিকা নিয়েও তিনি বই লিখেছেন। এটি সেই বই।
কিতাব আল-তারিখ: এ মুল্যবান বই থেকে বঞ্চিত। এটি আর পাওয়া যায় না। এটি সাধারণ দিনলিপির উপর লিখিত।
কিতাব আল-রুখমাত: এটি সুর্যঘড়ির উপর লিখিত একটি বই।এটি থেকেও আমরা বঞ্চিত।
মৃত্যু: সম্ভবত এ মহান বৈজ্ঞানিক ৮৪৭ বা ৮৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মৃত্যুমুখে পন্ডিত হন। খলিফা মামুনের মৃত্যুর পরও তিনি এক যুগের অধিক জীবিত ছিলেন।বিজ্ঞানে মৌলিক অবদানের জন্য আল-খাওয়ারিজমী চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

পরিশেষ : বিজ্ঞানে মৌলিক অবদানের জন্য আল-খোয়ারিজমী চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। ষোড়শ শতক পর্যন্ত তার অনেক বই ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত ছিলো।জ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহই তাকে একজন পুরোপুরি বিজ্ঞানীতে পরিণত করে তুলেছিলো। তাঁর গবেষণা বিজ্ঞানীদের সমসাময়িক অনেক বাধা দুর হয়। আজও তাঁর অবদান সমুজ্জল। আসুন আমরাও কুরআন ও সহীহ অনুসরণ করার পাশাপাশি তা নিয়ে গবেষণা ও চিন্তা করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Adsss Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads
AD Place
hair tonic