Youth Science Academy
AD
AD 2
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ গণিতবিদ (পর্ব ১)

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ গণিতবিদ (পর্ব ১)

কিছুদিন আগে আমি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ গণিত হিরো নামে একটি বই পড়লাম।তা নিয়েই লিখছি।গ্রহণযোগ্য মতামত অবশ্যই আহবান করি ।
বইয়ে শ্রেষ্ঠ ১০জন গণিতবিদের তালিকা দিয়েছে তা হলো:
1. যোহান কার্ল ফ্রেডরিচ গাউস (১৭৭৭-১৮৮৫)
2. স্যার আইজ্যাক নিউটনস (১৬৪৩-১৭২৭)
3. আর্কিমিডিস (খ্রীষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২)
4. নিওদার্নো অয়লার(১৭০৭-১৭৮৩)
5. আল খোয়ারেজমি (৭৮০-৮৫০)
6. ইউক্লিড (খ্র্রীষ্টপূর্ব ৩২৫-২৬৫)
7. রেনে দেকার্ত (১৫৯৬-১৬৫০)
8. জর্জ ক্যান্টর (১৮৪৫-১৯১৮)
9. আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)
10. কার্ল পিয়ারসন (১৮৫৭-১৯৩৬)

এদের মধ্যে প্রথম তিনজনের জীবনী আমি ঐ বই হতে ও আমার নিজস্ব সংগ্রহের বই ও ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য গুলি যোগ করে প্রকাশ করছি।

জোহান কার্ল ফ্রেডরিচ গাউস (Johann Carl Friedrich Gauss) জন্ম: ৩০ এপ্রিল,১৭৭৭ ব্রুনসউইক এ বর্তমানে জার্মানীতে
মৃত্যু:২৩শে ফেব্রুয়ারী,১৮৫৫, গোটিংগেন, হ্যানোভার, জার্মানী।
তিনি গণিতের সকল শাখায়ই সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছেন এবং সবচেয়ে বেশী মৌলিক আবিষ্কার সম্পাদন করেছেন।তাই তিনি বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গণিতবিদের মর্যাদা লাভ করেছেন।তাকে গণিতের যুবরাজ বলা হয়।গণিতশাস্ত্রে তার বিশাল অবদানের জন্য তাকে গণিত সম্রাটও বলা হয়।যে গাউস, নিউটন ও আর্কিমিডিসকে পৃথিবীর সর্বকালের তিন শ্রেষ্ট গনিতবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তিনিই সেই প্রথম স্থান অর্জনকারী জার্মানীর যোহান কার্ল ফ্রেডরিচ গাউস।তিনি মূলত বিশুদ্ধ গনিতের রাজা।ছোটবেলা থেকেই তার গণিতের মেধার পরিচয় পাওয়াযায়।তিনি ছিলেন গণিতের বিশুদ্ধতার মাপকাঠি তথা বিচারক।পরিসংখ্যানে পরিমিত বিন্যাস সৃজনের জন্য তিনি পরিসংখ্যানবিদদের কাছে চির অমর হয়ে আছেন।তার প্রধান আবিষ্কারগুলো হলো:

1. Fundamental Theorem of Algebra
2. Fundamental Theorem of Functions of a Complex Variable
3. Foundation of the theory of complex numbers
4. The notion of "monogenic" functions
5. Law ofLeast Squares
6. Foundations of Statistics
7. Differential geometry
8. Normal curve
9. Discovered doubly periodic elliptic functions
10. Proving Euler's Law of Quadratic Reciprocity ইত্যাদি

স্যার আইজাক নিউটন (Sir Issac Newton)
জন্ম: ০৪ঠা জানুয়ারী,১৬৪৩,ইংল্যান্ড
মৃত্যু: ৩১শে মার্চ, ১৭২৭, লন্ডন, ইংল্যান্ড
তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ।পদার্থবিজ্ঞানেন প্রয়োজনে যখন যে গাণিতিক সূত্র প্রয়োজন হতো তিনি নিজেই তা আবিষ্কার করে নিতেন।গতিসূত্র ও ক্যালকুলাসের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশী বিখ্যাত।পৃথিবীর সর্বকালের তিন শ্র্রেষ্ঠ গণিতবিদের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয় একজন।তাঁর জগত বিখ্যাত প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা গ্রন্থটি পদার্থবিদ্যার বলবিদ্যার উপর রচিত হলেও এটি মুলত গণিত ভিত্তিক একটি অমর গ্রন্থ।

তার প্রধান অবদানগুলো হলো:
1. Fundamental Theorem of Calculas
2. Laws of Motion
3. Law of Universal Gravitation
4. Binomial Theorem
5. Philosophiae Naturalis Principia Mathematica গ্রন্থ ইত্যাদি।

আর্কিমিডিস (Archimedes )
জন্ম: খ্রীষ্টপূর্ব ২৮৭, সাইরকিউস দ্বীপে, সিসিলি,
মৃত্যু: খ্রীষ্টপূর্ব ২১২,সাইরকিউস দ্বীপে, সিসিলি,
তিনি ছিলেন প্রাচীনকালের শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ ও গণিতবিদ।তিনি পৃথিবীর সর্বকালের তিন শ্রেষ্ঠ গণিতবিদের মধ্যে তৃতীয়।
তিনি সংখ্যাতত্ত্বে ও বীজগণিতের উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন।কিন্ত পদার্থবিদ্যা ও জ্যামিতিতে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশী।প্রাচীন পদার্থবিদ্যার মধ্যে তিনিই প্রথম সার্থকভাবে পদার্থবিজ্ঞানে গণিত ও জ্যামিতির ব্যবহার শুরু করেন।তাকে অনুসরণ করেই পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানে প্রায় সকল শাখাতে গণিতের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করেন।

তার প্রধান অবদান গুলো হলো:
1. The principles of Leverage
2. The first law of Hydrostatics
3. Inventions like the compound pulley,
the hydraulic screw, and war machines
4. Floating Bodies, Spirals, The Sand Reckoner
5. Measurement of the Circlel, and Sphere and Cylinder.

স্যার আইজাক নিউটনকে নিয়ে একটু বিস্তারিত:
স্যার আইজাক নিউটন (Sir Issac Newton)
জন্ম: ২৫শে ডিসেম্বর,১৬৪২,ইংল্যান্ড
মৃত্যু: ২০শে মার্চ, ১৭২৭, লন্ডন, ইংল্যান্ড
তিনি ১৬৪২ সালের বড়দিনে জন্মগ্রহণ করেন।তার জন্মের কয়েক মাস পূর্বেই পিতার মৃত্যু হয়।জন্মের সময় তিনি ছিলেন দুর্বল শীর্ণকায় আর ক্ষুদ্র আকৃতির।প্রথম তিন বছর তার বিধবা মায়ের সাথে কাটে।এর পর তার মা এক ভদ্রলোকের প্রেমে পড়ে তাকে বিবাহ করলে তিনি দাদীর কাছে লালিত পালিত হতে থাকেন।১২ বছর বয়সে নিউটনকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয়।শিক্ষকরা তার অসাধারণ মেধার জন্য ভালোবাসতেন।

ছোটবেলার কাহিনী:
স্কুলের অধ্যক্ষের শালা প্রায়ই স্কুলে দেরী করে আসত।একদিন নিউটন বললেন, স্যার আপনার জন্য একটা ঘড়ি তৈরী করে দিচ্ছি, তাহলে ঘড়ি দেখে ঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারবেন।নিউটন ঘড়ি তৈরী করলেন।ঘড়ির উপর থাকত একটা পানির পাত্র।প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পারি সেই পাত্রে ঢেলে দেওয়া হতো।তার থেকে ফোটা পানির ঘড়ির কাটার উপর পড়ত এবং ঘড়ির কাটা আপন বেগে এগিয়ে চলতো। এরপর নিউটনের পিতা মারা গেলেন।ক্ষেত জমিজমা দেখাশোনার জন্য তাকে স্কুল ছাড়ানো হলো। তার চাচা উইলিয়াম ভাইপোর জ্ঞানতৃষ্ঞায় মুগ্ধ হয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসেন।তিনি নিউটনকে স্কুলে ভর্তি করে দেন।এর এক বছর পর নিউটন ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হলেন।উল্লেখ্য তার চাচা ট্রিনিটি কলেজের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৬৬৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

আবিষ্কার:
কলেজ ছাত্র থাকা কালীন অবস্থাতেই তিনি গণিত শাস্ত্রের উপর কিছু জটিল তত্ত্ব আবিষ্কার করেন-
1. বাইনোমিয়াল থিওরেম (Binomial Theorem)
2. ফ্লাকসনস (Fluxions)বা ইন্ট্রিগ্যাল ক্যালকুলাস (Intregal Calculas)
3. পদার্থের ঘনত্ব (The methods for Calculating the area of curves or the volume of solids)
১৬৬৬ সালে এক চিঠিতে নিউটন লিখেন, আমি পদ্ধতি উদ্ভাবনের সাথে সাথেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সমন্ধে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেন।তখন তার বয়স মাত্র চব্বিশ। তিনি চাদ ও অন্য গ্রহ নক্ষত্রের গতি নির্ণয় করার চেষ্টা করেন।কিন্ত তার উদ্ভাবিত তত্ত্বের মধ্যে কিছু ভুল ত্রুটি থাকার জন্য তার প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণ ও ভুল থেকে যায়। তার এই সব কাজ ও মৌলিক তত্ত্বের জন্য ১৬৬৭ সালে হতে ফেলো নির্বাচন করে।তারপর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রিনিটি কলেজের গণিতের অধ্যাপক হিসেবে নির্বাচিত হলেন। এরপর তিনি আলোর প্রকৃতি ও তার গতিপথ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং এই কাজের প্রয়োজনেই তিনি তৈরী করলেন প্রতিফলক টেলিস্কোপ (Reflecting Telescope)। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তাকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ইংল্যান্ডের রয়াল সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত করা হলো। এর পর তিনি আবিষ্কার করেন আলোর বর্ণতত্ত্ব (Theory of colour)। এর পর তিনি গতিসুত্রের তিনটি সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি ১৬৪৭সালে প্রকাশ করলেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ- Mathematical Principles of Natural Philosophy.যেখানে তিনি মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেন।এই বইটি ল্যাটিন ভাষায় লেখা আর তিনটি খন্ডে বিভক্ত।

প্রথম খন্ডে নিউটন গতিসূত্র সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় খন্ডে তিনি গ্যাস, ফ্লুইড, বস্তুর গতির কথা আলোচনা করেছেন। তৃতীয় খন্ডে মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব সমন্ধে খুটিনাটি আলোচনা করেছেন। এরপর মাঝখানে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৭০৩ সালে নিউটন রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি হলেন।আমৃত্যু তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।১৭০৫ সালে তাকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করা হলো।

মৃত্যু: ১৭২৭ সালে নিউটন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন।চিকিত্সাতে কোন সুফল পাওয়া গেলো না।অবশেষে ২০শে মার্চ মহাবিজ্ঞানী নিউটন এই দুনিয়া হতে চিরনিদ্রায় শুয়ে পড়লেন । সাতদিন পর তাকে ওযেষ্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে তাকে সমাহিত করা হলো। মৃত্যুর আগে তিনি লিখে গিয়েছিলেন, "পৃথিবীর মানুষ আমাকে কিভাবে জানি না কিন্ত আমি নিজের সম্পর্কে মনে করি যে আমি একটা ছোট ছেলের মত সাগরের তীরে খেলা করছি আর খুজে পেয়েছি সাধারণের চেয়ে সামান্য আলাদা পাথরের নুড়ি বা ঝিনুকের খোলা।সামনে আমার পড়ে রয়েছে অনাবিষ্কৃত বিশাল জ্ঞানের সাগর ।"

পরবর্তী ব্লগে পরবর্তীদের তালিকাসহ তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাদের অবদান উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।

Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Adsss Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads Ads AdsAds Ads Ads Ads Ads Ads
AD Place
hair tonic